মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

পরিত্যক্ত ডায়রি · অধ্যায় ৩/৫

পার্ট - ০৩

“আজকে তাহমিনা আপু আসছিলো।

ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। এতোদিন তো তাও কান্না করতে পারতেসিলাম। যখনই কষ্ট লাগতো ইচ্ছা মত কেঁদে নিতাম। কিন্তু আপুর সাথে কথা হওয়ার পর মনে হচ্ছে যেন কষ্টগুলো সব বুকের ভেতর জমাট বেধে গেছে।একটুও কাঁদতে পারছি না। বার বার আপুর কোয়েস্চেনগুলা কানে ভাসে। কিছু ডায়রিতে তুলে রাখি হয়ত ফিউচারে আমারই কাজে লাগবে।

১) তোর বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য কি? তপুর মত একটা ছ্যাচড়া ছেলেকে বিয়ে করা?

২) এই জন্যই কি এত বছর থেকে মামা মামি এত কষ্ট করে তোকে বড় করছে?

৩) এই জন্যই কি আল্লাহ্ তোকে সৃষ্টি করছেন ?

এখন আর আমার কান্না পায় না। বার বার চোখ ভিজে আসে। আবার কথাগুলা মনে পড়ে। মুহূর্তেই চোখে খরা ”

ইন্তিহা এক দৃষ্টিতে দেয়ালে আঁকা প্রজাপতিটার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মাথার ভেতর এখন রাজ্যের ভাবনা ঘুরছে। সত্যিই তো, আল্লাহ্ কেন তাকে সৃষ্টি করেছেন, জীবন দিয়েছেন। আল্লাহ্ নাকি কোনো প্রয়োজন ছাড়া কিছু করেন না, তাহলে ইন্তিহার বেঁচে থাকার কি প্রয়োজন আছে! হ্যাঁ! প্রয়োজন তো আছেই হয়ত। তা না হলে এতবার সুইসাইড করতে ট্রাই করেও কেন পারলো না সে। আবার সামনে মিড টার্ম পরীক্ষা! পড়তে হবে। কোনোভাবেই মিডে টার্মে খারাপ করা যাবে না। তা না হলে সবাই ভাববে তপুর জন্য এমন হয়েছে।

এসব ভাবতে ভাবতে ইন্তিহা পড়তে বসলো। প্রায় মাস খানেক পর পড়তে বসেছে ও। কিন্তু পড়তে বসেই আবার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। আগে তো পড়তে বসলেই তপুকে একটা এসএমএস দিয়ে দিতো। এখন আর তা হবে না। পরক্ষণেই তাহমিনা আপুর একটা কথা মনে পড়ে যায়। আপু বলেছিলো খুউব বেশি মন খারাপ হলে নামাজ পড়ে সেজদায় গিয়ে আল্লাহ্ এর সাথে কথা বলতে। এতে নাকি মন হালকা হয়। কিন্তু এত বছর পর নামাজ পড়তে কেমন যেন সংশয় হচ্ছিলো ইন্তিহার। তাও আবার নিজের কষ্টের কথা বলতে সে নামাজে দাঁড়াবে।অদ্ভুত! এত বছর কোনো কষ্ট ছিলো নাহ্। নামাজও পড়ে নাই। কি ভাববে আল্লাহ্!

ভাবতে ভাবতেই কানে হেডফোন লাগিয়ে গান প্লে করে দিলো ইন্তিহা। সামনে বই। কানে হেডফোন। হাতে ফেসবুক। গান প্লে হচ্ছে।

“তুমি যাকে ভালোবাসো

স্নানের ঘরে ভাসবে ভাসো।

তার জীবনে ঝড়

তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেধো ঘর।”

অজান্তেই ইন্তিহার গাল বেয়ে দু’ফোটা পানি গড়িয়ে গেলো। গানের “তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেধো ঘর” সেনটেন্সটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা ও। হেডফোন খুলে দূরে ছুড়ে ফেললো। আর সাথে সাথে ফোনের সব গান ডিলিট করে দিলো। সবগুলা ফালতু গান!

তারপর ওযু করে নামাজে দাড়ালো।

যদিও বার বারই মনে হচ্ছিলো যে আল্লাহ্ কি ভাববে।কতটা স্বার্থপর সে। আর এতো বছর নামাজ না পড়ায় অনেক কিছুই ভুলে গিয়েছিলো। তবুও যেটুকুই মনে আছে তা দিয়েই নামাজটা পড়ে নিলো।