মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

এক ফোঁটা জল · অধ্যায় ৭/৯

পার্ট - ০৭

‘রুহি আপু, চাচীমা তোমাকে ডাকে’, আঙ্গিনায় এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতে খবর দেয় ছোট চাচীর ছ’বছর বয়সী মেয়ে সুমি।

‘বড়চাচী কোথায় রে?’, চাউলের কুলাটা নামিয়ে রাখতে রাখতে জিজ্ঞেস করে রুহি।

‘চাচীর ঘরে’, এক পায়ে লাফাতে লাফাতে উত্তর দেয় সুমি।

ওড়নার আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বড়চাচীর দরজায় নক করে রুহি। ভেতর থেকে ডাক শোনা যায়, ‘রুহি, দরজা খোলা, ভেতরে আয় মা’।

রুহি ঘরে ঢুকে হাসতে হাসতে বলে, ‘চাচীমা, আমি যেভাবেই নক করি, তুমি সবসময় ধরে ফেল কিভাবে বল তো? সুমিও তো নক করতে পারত!’

চাচীও হাসতে হাসতে উত্তর দেন, ‘তোর হাতের শব্দ আমি এত বছরে না বুঝলে ত্রিশ বছর সংসার করে আর বুঝলাম কি?’

চাচী বিছানায় বসে ছিলেন। রুহি গিয়ে তাঁর পায়ের কাছে বসে যায়। হঠাৎ ঘরের অন্য পাশ থেকে সামান্য ক্যাঁচক্যাঁচ আওয়াজ শুনে সচকিত হয়ে যায় রুহি, চোখের কোণ থেকে লক্ষ্য করে সাদ চাচার আরামকেদারায় বসে নিজেকে নিজে জড়িয়ে ধরে সামনে পেছনে দুলছে, চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। সায়রা বসে আছে ভাইয়ের পায়ের কাছে, চেহারায় সহানুভূতি। দু’জনই চুপচাপ।

চাচী বলেন, ‘আমরা তো আর বসার সময় পেলাম না। তুই বিয়ের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা কিছু করেছিস? বায়োডাটাগুলো দেখতে দিয়েছিলাম, দেখেছিলি?’

রুহি মাথা নাড়ে, ‘চাচীমা, আমি বিয়ে করতে চাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’।

চাচীকে চিন্তিত দেখায়, ‘তোর কি কোন বায়োডাটা পছন্দ হয়েছে?’

রুহি বলে, ‘একটা হলেই হোল’।

চাচী আশ্চর্য হোন, ‘মানে?’

রুহি হাল্কা হেসে বলে, ‘যোগ্যতা না থাকলে কি আর এরা দাদার কাছে অ্যাপ্লিকেশান পাঠাত? সুতরাং, যেকোন একটার সাথে দিলেই হয়, তোমার যাকে পছন্দ’।

রুহির নির্লিপ্ততায় চাচীর চেহারায় চিন্তার ছাপ আরো স্পষ্ট হয়, ‘রুহি, বিয়েটা সারা জীবনের ব্যাপার। এভাবে হেলাফেলা করিস না’।

রুহি জোর করে হেসে বলে, ‘হেলাফেলা কোথায় করলাম চাচীমা? আমি বিয়ে করতে চাই। তুমি তোমার পছন্দমত যেটা এনে হাজির করবে আমি সেটার সাথেই বসে যাব। রাস্তা থেকে যেকোন কাউকে ধরে এনে বিয়ে দিয়ে দিলেও আমি আপত্তি করবনা। শুধু তাড়াতাড়ি কর’।

রুহির ব্যাস্ততার কারণ আন্দাজ করে মনে মনে ওর জন্য কষ্ট পান চাচী। বলেন, ‘এত তাড়াহুড়ার কি আছে? আমরা দেখি সাদের জন্য দাদা যে দাওয়াত আয়োজন করছেন সেটা হয়ে গেলে একবার বসতে পারি কিনা সবাই মিলে’।

রুহি অনড়।

শেষে চাচী বলেন, ‘আচ্ছা, তোর যখন এত বিয়ে করার শখ, তোকে আমি যেখান থেকে পারি ছেলে জোগাড় করে সাতদিনের মধ্যেই বিয়ে দেব, আমার পছন্দের ছেলের সাথেই দেব, তখন কিন্তু বলতে পারবিনা আমি তোকে পছন্দ করার সুযোগ দেইনি’।

বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে রুহি বলে, ‘বলবনা, কখনোই বলবনা’।

চাচীর ঘরে থেকে বেরিয়ে যাবার সময় রুহি দেখে সায়রা ভাইয়ের হাঁটুর ওপর মুখ গুঁজে কাঁদতে শুরু করেছে।