এক ফোঁটা জল · অধ্যায় ২/৯
পার্ট - ০২
অনেক কাজ করা হোলনা অবশ্য। সাদের ফিরে আসা উপলক্ষ্যে দাদা মিটিং ডাকলেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে। ছেলে বৌ, মেয়ে জামাই, নাতি নাতনী, কাজের লোকজন কেউ বাদ গেলনা সেই সভা থেকে। সবাই একত্রিত হলে দাদা বললেন, ‘আজ আমার বড় গর্বের দিন। আমার বড় ছেলের বড় ছেলে আজ দেশের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করে ফিরল। আমি ঠিক করেছি এই উপলক্ষ্যে সমস্ত আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীদের খাওয়াব আগামী শুক্রবার’। খুশিতে জ্বলজ্বল করছে দাদার চেহারাটা। ভাইয়ের সাফল্যে নাতনীদের মুখে হাসি, কিন্তু একটু মেঘের ছায়াও যেন, দাদা ওদের নিয়ে কখনো এভাবে উচ্ছ্বসিত হোন না। দাদা বলে চললেন, ‘আরেকটা খুশির খবর আছে। সাদ ফিরে আসার আগেই আমি কয়েকটা বিদেশী ইউনিভার্সিটির সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। দুটো ইউনিভার্সিটি ওকে পি এইচ ডি করাতে আগ্রহী। আমি ঠিক করেছি ওকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাব’।
এই খবরটা সবার কাছেই সারপ্রাইজ। বড় বৌ বলল, ‘আপনি এতকিছু কখন করলেন বাবা?’
দাদা মাথা দুলিয়ে হেসে বললেন, ‘দেখছ বৌমা, তুমি জিজ্ঞেস করছিলে না রাতদিন এত কি লেখালেখি করি? এখন বুঝলে তো!’
হঠাৎ সাদের ছোটবোন সায়রার ক্ষীণ কন্ঠ শোনা গেল, ‘ভাইয়া কবে যাবে দাদা?’
সায়রা আর রুহি সারাক্ষণ একসাথে থাকে। রুহিকে সহ্য করতে পারেন না দাদা। তাই সায়রার ওপরেও ঈষৎ বিরক্ত তিনি। চোখমুখ গম্ভীর করে বললেন, ‘বড়দের কথার মাঝে কথা বল কেন? সাদ এক সপ্তাহ পর যাবে’।
এইমাত্র বকা খাবার কথা ভুলে সায়রা বলে ফেলল, ‘ভাইয়া তো বাড়ী ফিরল পাঁচ বছর পর! গতবার ছুটিতে এসেছিল তাও তিন মাস আগে। এক সপ্তাহ থেকেই চলে যাবে?! অস্ট্রেলিয়া থেকে তো আর তিন মাস পর পরও আসতে পারবেনা!’
ওর কথায় সবাই দাদার শাসনের কথা ভুলে শোরগোল শুরু করে দিল। অন্যায়, মহা অন্যায় হচ্ছে এটা। কতদিন পর ছেলেটা বাড়ী ফিরল আর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার নির্বাসন! সাদ বোনের অশ্রুপ্লাবিত চেহারার দিকে তাকাতে গিয়ে লক্ষ্য করল রুহি সবার অলক্ষ্যে সভা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, ওর চোখের কোণে এক ফোঁটা জল।
এই খবরটা সবার কাছেই সারপ্রাইজ। বড় বৌ বলল, ‘আপনি এতকিছু কখন করলেন বাবা?’
দাদা মাথা দুলিয়ে হেসে বললেন, ‘দেখছ বৌমা, তুমি জিজ্ঞেস করছিলে না রাতদিন এত কি লেখালেখি করি? এখন বুঝলে তো!’
হঠাৎ সাদের ছোটবোন সায়রার ক্ষীণ কন্ঠ শোনা গেল, ‘ভাইয়া কবে যাবে দাদা?’
সায়রা আর রুহি সারাক্ষণ একসাথে থাকে। রুহিকে সহ্য করতে পারেন না দাদা। তাই সায়রার ওপরেও ঈষৎ বিরক্ত তিনি। চোখমুখ গম্ভীর করে বললেন, ‘বড়দের কথার মাঝে কথা বল কেন? সাদ এক সপ্তাহ পর যাবে’।
এইমাত্র বকা খাবার কথা ভুলে সায়রা বলে ফেলল, ‘ভাইয়া তো বাড়ী ফিরল পাঁচ বছর পর! গতবার ছুটিতে এসেছিল তাও তিন মাস আগে। এক সপ্তাহ থেকেই চলে যাবে?! অস্ট্রেলিয়া থেকে তো আর তিন মাস পর পরও আসতে পারবেনা!’
ওর কথায় সবাই দাদার শাসনের কথা ভুলে শোরগোল শুরু করে দিল। অন্যায়, মহা অন্যায় হচ্ছে এটা। কতদিন পর ছেলেটা বাড়ী ফিরল আর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার নির্বাসন! সাদ বোনের অশ্রুপ্লাবিত চেহারার দিকে তাকাতে গিয়ে লক্ষ্য করল রুহি সবার অলক্ষ্যে সভা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, ওর চোখের কোণে এক ফোঁটা জল।