মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

এক ফোঁটা জল · অধ্যায় ১/৯

পার্ট - ০১

বাড়ী ফিরে অন্দরমহলে ঢুকতেই আঙ্গিনায় মা চাচীদের জটলা দেখে হেসে মাথা ঝাঁকালো সাদ। এটা ওদের বাসার সাধারন চিত্র। মা যেখানে, চাচীরাও সেখানে। মায়ের ছায়ায় থাকলে দাদা বৌদের ওপর বেশি হম্বিতম্বি করার সুযোগ পান না। বড় বৌটা ভয়ই পায়না তাঁকে, কিভাবে যেন হেসে কথা বলে সব সহজ করে ফেলে। ছোটগুলো এখনো পদ্ধতিটা সেভাবে রপ্ত করতে পারেনি, তাই অন্তত বড় জায়ের কাছাকাছি থেকে শ্বশুরের মেজাজ থেকে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করে। সাদ খেয়াল করল চাচীদের সবার হাতে দুটো তিনটা করে কাগজ। সবাই উচ্চস্বরে মন্তব্য করছে এগুলো নিয়ে। সম্মিলিত কন্ঠস্বরের কলতান সাদ কিছুই বুঝতে পারছেনা, কিন্তু ওরা ঠিকই বুঝে নিচ্ছে নিজেদের মধ্যকার কথাবার্তা। মায়ের গা ঘেঁষে লাজুক লাজুক চেহারা নিয়ে বসে আছে রুহি, মেজচাচার মেয়ে। সাদকে দেখে মা হন্তদন্ত হয়ে উঠে এলেন। কাছে এসে ছেলেকে আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ওকে দেখে চাচীরাও এগিয়ে এলেন, ‘কি বাবা, কেমন আছিস? কতদিন পর তোকে দেখছি! চেহারাটা শুকিয়ে কি হয়েছে! দাঁড়া, রুহির মত তোকেও একটা বিয়ে করিয়ে দিতে হবে, তোর দেখাশোনার জন্য তোর সাথেই পাঠিয়ে দেব বৌকে’।

সাদ অবাক হয়ে বলে, ‘রুহির কবে বিয়ে হোল? কই, আমাকে তো তোমরা কেউ জানাওনি!’

রুহি লজ্জা পেয়ে বড় চাচীর ঘাড়ে মুখ লুকায়।

মা সাদকে মাথায় আদরের চাঁটি মেরে বলেন, ‘রুহির বিয়ে হলে তুই খবর পেতি না? ওর জন্য অনেকগুলো প্রস্তাব এসেছে। আমরা সবাই বায়োডাটাগুলো নিয়ে বসেছি, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। তুই হাতমুখ ধুয়ে খেতে আয়। তারপর এগুলো বাছাই করতে বসব আমরা, তুই থাকবি সহকারী হিসেবে। দেখি কদ্দুর কি যোগ্যতা অর্জন হোল তোর লেখাপড়া করে’।

সাদ বলে, ‘তাই তো। আমাদের বাড়ীর একটা মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে আর আমি দূরে থাকি দেখে কেউ আমাকে খবর দেবেনা!’ তারপর বায়োডাটার স্তুপ দেখে বলে, ‘এভাবে কি বাছাই করা যায় নাকি? আমি এগুলো সব এক দুই করে সিরিয়াল করে দেব। তারপর তোমরা একেকটা বায়োডাটা নিয়ে আলাপ করবে। আমি হব মডারেটর’।

রুহি খুশি হয়ে বলল, ‘তাহলে তো ভালোই হয় ভাইয়া। তখন আর চাচীদের এভাবে মাছের বাজারে দর কষাকষির মত চেঁচামেচি করতে হবেনা, সবাই শৃংখলাবদ্ধ হয়ে একটা ফলপ্রসূ আলাপ করতে পারবে’।

সেজচাচী রুহির দিকে প্রশ্রয়ের হাসি হেসে বলেন, ‘দুষ্ট মেয়ে কোথাকার! আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করা হচ্ছে!’ তারপর বড় ভাবীকে বলেন, ‘ছেলেটা এলেই ঘরের চেহারা অন্যরকম হয়ে যায়। চল ভাবী, বাবাটাকে কিছু খেতে দেই! অনেক কাজ করতে হবে তারপর’।