হযরত ইউসুফ (আঃ) · অধ্যায় ৫৬/৬০
(৪৮.৬) আয়াত সংখ্যা ২৬
আয়াত সংখ্যা ২৬:
(وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنْ أَهْلِهَا)
‘আর মহিলার পরিবারের জনৈক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল’। কিন্তু কে সেই সাক্ষী? এ নিয়ে মুফাসসিরগণের মধ্যে প্রচুর মতভেদ রয়েছে। যেমন কেউ বলেছেন এটি ছিল দোলনার শিশু, কেউ বলেছেন, মহিলার এক দূরদর্শী চাচাতো ভাই, কেউ বলেছেন, তিনি মানুষ বা জিন ছিলেন না, বরং আল্লাহর অন্য এক সৃষ্টি ছিলেন। ছাহাবী ও তাবেঈগণের নামেই উক্ত মতভেদগুলি বর্ণিত হয়েছে। অথচ কুরআন স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে যে, ‘ঐ ব্যক্তি ছিলেন মহিলার পরিবারের সদস্য’ (ইউসুফ ২৬)। এটা বুঝতে মোটেই কষ্ট হয় না যে, লোকটি ছিলেন নিরপেক্ষ ও অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি এবং তিনি ছিলেন আযীযে মিছরের নিকটতম লোক। নইলে তিনি তার সঙ্গে অন্দরমহলে আসতে পারতেন না।
দুর্ভাগ্য যে, এ প্রসঙ্গে একটি হাদীছও বলা হয়ে থাকে। সেখানে বলা হয়েছে যে, চার জন শিশু দোলনায় থাকতে কথা বলেছে, তার মধ্যে ইউসুফের সাক্ষী একজন। চারজনের মধ্যে তিন জনের বিষয়টি সঠিক। কিন্তু ইউসুফের সাক্ষী কথাটি মিথ্যা। যার কারণে হাদীছটি যঈফ।[40] ঐ তিন জন হ’লেন, ঈসা (আঃ), ২- জুরায়েজ নামক বনু ইস্রাঈলের জনৈক সৎ ব্যক্তি, যাকে এক দুষ্টু মহিলা যেনার অপবাদ দেয়। পরে তার বাচ্চা স্বয়ং জুরায়েজ-এর নির্দোষিতার সাক্ষ্য দেয় ও প্রকৃত যেনাকারীর নাম বলে দেয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ)। ৩- শেষনবীর জন্মগ্রহণের প্রায় ৪০ বছর পূর্বে সংঘটিত আছহাবুল উখদূদের ঘটনা, যেখানে এক যালেম শাসক বহু গর্ত খুঁড়ে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে একদিনে প্রায় বিশ হাযার মতান্তরে সত্তুর হাযার ঈমানদার নর-নারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। সে সময় একজন মহিলা তার কোলে থাকা দুধের বাচ্চাকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিতে ইতস্তত করায় শিশু পুত্রটি বলে উঠেছিল,
إصبِرى يااُمَّهْ فإنكِ على الحق
‘ছবর কর মা! কেননা তুমি সত্যের উপরে আছ’।[41] এইসব ছহীহ হাদীছের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ইউসুফের সাক্ষীর নাম। অথচ কুরআন স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছে যে, সাক্ষী ছিলেন মহিলাটির পরিবারের একজন ব্যক্তি। তাছাড়া আরও বলে দিয়েছে উক্ত ব্যক্তির দূরদর্শিতাপূর্ণ পরামর্শ যে, যদি ইউসুফের জামা পিছন দিকে ছেঁড়া হয়, তাহ’লে সে সত্যবাদী’ (ইউসুফ ২৭)। এক্ষণে কীভাবে একথা বলা যায় যে, ঐ সাক্ষী ছিল দোলনার শিশু বা আল্লাহর অন্য এক সৃষ্টি? যদি তাই হবে, তাহ’লে সেটাই তো যথেষ্ট ছিল। অন্য কোন তদন্তের দরকার ছিল না বা ইউসুফকে হয়ত জেলও খাটতে হ’ত না।
লেখকঃ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
-------------------------------------------------------------------
[40] আলবানী, যঈফুল জামে‘ হা/৪৭৬২, ৪৭৭৫।
[41] আহমাদ, সনদ ছহীহ, রাবী ছোহায়েব (রাঃ), সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৮০।
(وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنْ أَهْلِهَا)
‘আর মহিলার পরিবারের জনৈক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল’। কিন্তু কে সেই সাক্ষী? এ নিয়ে মুফাসসিরগণের মধ্যে প্রচুর মতভেদ রয়েছে। যেমন কেউ বলেছেন এটি ছিল দোলনার শিশু, কেউ বলেছেন, মহিলার এক দূরদর্শী চাচাতো ভাই, কেউ বলেছেন, তিনি মানুষ বা জিন ছিলেন না, বরং আল্লাহর অন্য এক সৃষ্টি ছিলেন। ছাহাবী ও তাবেঈগণের নামেই উক্ত মতভেদগুলি বর্ণিত হয়েছে। অথচ কুরআন স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে যে, ‘ঐ ব্যক্তি ছিলেন মহিলার পরিবারের সদস্য’ (ইউসুফ ২৬)। এটা বুঝতে মোটেই কষ্ট হয় না যে, লোকটি ছিলেন নিরপেক্ষ ও অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি এবং তিনি ছিলেন আযীযে মিছরের নিকটতম লোক। নইলে তিনি তার সঙ্গে অন্দরমহলে আসতে পারতেন না।
দুর্ভাগ্য যে, এ প্রসঙ্গে একটি হাদীছও বলা হয়ে থাকে। সেখানে বলা হয়েছে যে, চার জন শিশু দোলনায় থাকতে কথা বলেছে, তার মধ্যে ইউসুফের সাক্ষী একজন। চারজনের মধ্যে তিন জনের বিষয়টি সঠিক। কিন্তু ইউসুফের সাক্ষী কথাটি মিথ্যা। যার কারণে হাদীছটি যঈফ।[40] ঐ তিন জন হ’লেন, ঈসা (আঃ), ২- জুরায়েজ নামক বনু ইস্রাঈলের জনৈক সৎ ব্যক্তি, যাকে এক দুষ্টু মহিলা যেনার অপবাদ দেয়। পরে তার বাচ্চা স্বয়ং জুরায়েজ-এর নির্দোষিতার সাক্ষ্য দেয় ও প্রকৃত যেনাকারীর নাম বলে দেয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ)। ৩- শেষনবীর জন্মগ্রহণের প্রায় ৪০ বছর পূর্বে সংঘটিত আছহাবুল উখদূদের ঘটনা, যেখানে এক যালেম শাসক বহু গর্ত খুঁড়ে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে একদিনে প্রায় বিশ হাযার মতান্তরে সত্তুর হাযার ঈমানদার নর-নারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। সে সময় একজন মহিলা তার কোলে থাকা দুধের বাচ্চাকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিতে ইতস্তত করায় শিশু পুত্রটি বলে উঠেছিল,
إصبِرى يااُمَّهْ فإنكِ على الحق
‘ছবর কর মা! কেননা তুমি সত্যের উপরে আছ’।[41] এইসব ছহীহ হাদীছের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ইউসুফের সাক্ষীর নাম। অথচ কুরআন স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছে যে, সাক্ষী ছিলেন মহিলাটির পরিবারের একজন ব্যক্তি। তাছাড়া আরও বলে দিয়েছে উক্ত ব্যক্তির দূরদর্শিতাপূর্ণ পরামর্শ যে, যদি ইউসুফের জামা পিছন দিকে ছেঁড়া হয়, তাহ’লে সে সত্যবাদী’ (ইউসুফ ২৭)। এক্ষণে কীভাবে একথা বলা যায় যে, ঐ সাক্ষী ছিল দোলনার শিশু বা আল্লাহর অন্য এক সৃষ্টি? যদি তাই হবে, তাহ’লে সেটাই তো যথেষ্ট ছিল। অন্য কোন তদন্তের দরকার ছিল না বা ইউসুফকে হয়ত জেলও খাটতে হ’ত না।
লেখকঃ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
-------------------------------------------------------------------
[40] আলবানী, যঈফুল জামে‘ হা/৪৭৬২, ৪৭৭৫।
[41] আহমাদ, সনদ ছহীহ, রাবী ছোহায়েব (রাঃ), সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৮০।