ইন্টারফেইথ এবং সেক্যুলারিজম
৫ মিনিটে পড়ুন১৩ জানুয়ারি ২০২২
একটি ঈমান বিধ্বংসী ফিতনার নাম হচ্ছে ইন্টারফেইথ বা আন্তঃধর্ম। বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রুসেড বা ধর্ম যুদ্ধের নতুন ভার্সন-ইন্টারফেইথ ষড়যন্ত্র। ইন্টারফেইথ বা আন্তঃধর্ম নামটি বিভিন্ন নাম দিয়ে প্রচারিত হতে পারে। যেমনঃ ইন্টারফেইথ ডায়ালগ, ইন্টারফেইথ হারমোনি, ইন্টারফেইথ এলিয়েন্স ইত্যাদি। এই মতবাদের বিশ্বাসী মানুষ মনে করে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইহুদি সকল ধর্মেই সঠিক, সকল ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির, মানবতার কথা বলে। তাই কারো নিজের ধর্ম ত্যাগ করে ভিন্ন ধর্মে যাওয়ার দরকার নেই। “ইন্টারফেইথ ডায়ালগ” বাংলা করলে যার অর্থ দাড়ায় “আন্তঃধর্মীয় সংলাপ”। যার ভাবানুবাদ হলো সকল ধর্মের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য সমঝোতা করা। বিষয়টা শুনতে ভাল শোনা গেলেও এর পেছনে রয়েছে পবিত্র দ্বীন ইসলামের ক্ষতি সাধনের লক্ষে এক গভীর ষড়যন্ত্র। মোঘল বাদশাহ আকবর যেমন সব ধর্ম মিলিয়ে নতুন এক কুফরি ধর্ম “দ্বীন-ই-ইলাহি” চালু করেছিল, ইন্টারফেইথ তেমনি এক সর্ব ধর্মের কুফরি মিশ্রণ। বর্তমানে এ কুফরি ধর্মের বিষ প্রবেশ করানো হচ্ছে মুসলিমদের আক্বীদায়।
ইন্টারফেইথ মূলত আমেরিকার র্যান্ড কর্পোরেশন প্রচারিত মডারেট ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্ক, মুসলিম বিশ্বে ইন্টারফেইথকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। টেলিভিশনে প্রচার করছে ইন্টারফেইথ ডায়লগ। বিভিন্ন দেশে আয়োজন করছে ইন্টারফেইথ সম্মেলন। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, আন্তঃধর্মীয় প্রেয়ার, আন্তঃধর্মীয় মোনাজাত, আন্তঃধর্মীয় বিয়ে, মানবধর্ম ইত্যাদি পরিভাষা আজ মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মুসলিম বিশ্বে ইন্টারফেইথ প্রচারে কাফেররা মুসলিম দেশের জালেম সরকারদের সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাচ্ছে। ২০০৭ সালে ইহুদী বংশধর সউদী বাদশাহ আব্দুল্লাহ, ইহুদীদের মধ্যে কিছু পন্ডিত ও খ্রিস্টানদের পোপরা একত্রিত হয়ে একটি পরিকল্পনা করে এবং এর নামকরণ করে ‘ইন্টারফেইথ ডায়ালগ’। তাদের এ পরিকল্পনায়- বাদশাহ আকবরের নতুন ধর্ম দ্বীন-ই-ইলাহীর ন্যায় সকল ধর্ম একত্রিত করে একটি ধর্ম বা মতবাদ প্রণয়ন করার কথা বলা হয় এবং এ লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার জিহাদ সম্পর্কিত ও কাফিরদের বিরুদ্ধে ৭০০ পবিত্র আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার প্রস্তাবনা করা হয়। (নাউযুবিল্লাহ) পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১২-১৩ নভেম্বর বিভিন্ন দেশের নেতারা এ বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একত্র হয় নিউইয়র্কে। সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ৫০০ ইসলামী ব্যক্তিত্বকে দাওয়াত দেয়া হয়, উদ্দেশ্য, ইন্টারফেইথ এর বিষয়টা ছড়িয়ে দেয়ার প্ল্যান বাস্তবায়ন জন্য। বিশেষ ঐ সম্মেলনে বাদশাহ আব্দুল্লাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলো: জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, পাকিস্তানের আসিফ আলী জারদারি, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া এরোয়ো, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ এবং জর্ডানের বাদশাদ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ।
জীবন থাকে ধর্মকে পৃথিকীকরণ কুফুরী চিন্তার নাম সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, রাষ্ট্র সবার’, ‘জীবনের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য জীবন নয়’ এই রকম স্লোগানগুলো সেক্যুলারিজম নামক চিন্তার সন্তান।
ইন্টারফেইথ মূলত সেক্যুলারিজম এর পরিমার্জিত রুপ। পার্থক্য শুধু এতোটুকু যে, সেকুলারিজম প্রচারে কাফেররা ব্যবহার করে প্যান্ট, কোট, টাই পরা সেকুলার বুদ্ধিজীবীদের যাদের শয়তানি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানরা মোটামুটি সচেতন থাকে। পক্ষান্তরে ইন্টারফেইথ প্রচারে কাফেররা ব্যবহার করে সাদা জুব্বা পড়া, দাড়ি ওয়ালা,পাগড়ী বাধা সহীহ আকিদার শায়েখ, মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস ও জনপ্রিয় স্কলারদের। ফলে সাধারণ মুসলমানরা সহজেই ধোকা খাই এবং নিজের অজান্তেই তারা ঈমান হারিয়ে বসে। এদিক থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার ফেতনার চেয়ে ইন্টারফেইথ এর ফেতনা অধিক মারাত্মক ও সূক্ষ্ম।
সম্প্রতি বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে ‘সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভা’ নামে ‘ইন্টারফেইথ ডায়লগ’-এর নীল নকশা বাস্তবায়নের তৎপরতা। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ এর সহযোগী অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ মনজুর এলাহীকে বুজে বা না বুজেই হোক না কেন ইন্টারফেইথ এর পক্ষে জনমত তৈরী করতে দেখা যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে খ্রিস্টান পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে এদেশের মিডিয়া ‘সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি’ নিয়ে জোরেশোরে ইন্টারনেটে প্রচার শুরু করে। এই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। এমনকি এই পথ ভ্রষ্ট লোকটি পোপের সাথে আন্ত: ধর্মের মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে। Dbc নিউজ টিভি চ্যানেল কর্তৃক আয়োজিত উগ্রবাদ: ধর্ম যখন হাতিয়ার শীর্ষক এক ইন্টারফেইথ টকশোতে অংশগ্রহণ করেন ডঃ মোহাম্মদ মনজুর এলাহী। যেখানে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজল দেবনাথ এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের চার্জ লিডার রেভারেন্ড মার্টিন। কাজল দেবনাথ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ নিয়ে অপব্যাখ্যা করলেও মনজুরে এলাহী তার প্রতিবাদ করেননি বরং কোরআনে আছে বলে সমর্থন করেছন। তিনি জুম্মাবারে মসজিদ থেকে, ওয়াজ মাহফিল সভা-সেমিনারে সব জায়গাতেই ‘ইন্টারফেইথ নিয়ে আলোচনা করা হোক তার সমর্থন করেন।
ইসলাম যেমন সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা সমর্থন করে না, তেমনি ইসলাম ইন্টারফেইথ বা সর্বধর্মীয় সম্প্রীতির নামে কোনো আলোচনা ও সমর্থন করে না।
কুরআন ও সুন্নাহের অকাট্য দলিল দ্বারা একথা সুস্পষ্ট যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো হক দ্বীন নেই। ইসলামই একমাত্র দ্বীন আর অন্য সকল ধর্ম বাতিল।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯]
“কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনও গ্রহণ করা হবে না এবং সে হবে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫]
“নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ। আমি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম করো”। [সূরা ত্ব-হা, আয়াত ১৪]
“আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার কোন ক্ষতিও করতে পারে না। অতএব তুমি যদি এরূপ করো তাহলে নিশ্চয়ই তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে”। [সূরা ইউনুস, আয়াত ১০৬]
"হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।" (সূরাহ আল-মায়িদাহ, আয়াত : ৫১)
খিলাফত অতীতে খারিজী, মুতাজিলা সহ বিভিন্ন প্রকারের ফিতনা থেকে অনেক মুসলিমদেরকে দূরে রাখতে পেরেছিল। একমাত্র খিলাফতই ইন্টারফেইথ, সেক্যুলারিজম, দাজ্জালসহ বর্তমান ও ভবিৎসতের সকল ফিতনা থেকে মুসলিমদেরকে দূরে রাখতে পারবে। বিভক্ত এই মুসলিম উম্মাহকে এক করতে, কাফেরদের এবং মুনাফিরদের সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে মুসলিমদেরকে রক্ষা করতে খিলাফত সকল প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
“ইমাম (খলিফা) হচ্ছেন সেই ঢাল যার পেছনে থেকে মুসলিমরা নিজেদেরকে রক্ষা করে।“ [সহীহ মুসলিম]
ইন্টারফেইথ মূলত আমেরিকার র্যান্ড কর্পোরেশন প্রচারিত মডারেট ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্ক, মুসলিম বিশ্বে ইন্টারফেইথকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। টেলিভিশনে প্রচার করছে ইন্টারফেইথ ডায়লগ। বিভিন্ন দেশে আয়োজন করছে ইন্টারফেইথ সম্মেলন। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, আন্তঃধর্মীয় প্রেয়ার, আন্তঃধর্মীয় মোনাজাত, আন্তঃধর্মীয় বিয়ে, মানবধর্ম ইত্যাদি পরিভাষা আজ মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মুসলিম বিশ্বে ইন্টারফেইথ প্রচারে কাফেররা মুসলিম দেশের জালেম সরকারদের সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাচ্ছে। ২০০৭ সালে ইহুদী বংশধর সউদী বাদশাহ আব্দুল্লাহ, ইহুদীদের মধ্যে কিছু পন্ডিত ও খ্রিস্টানদের পোপরা একত্রিত হয়ে একটি পরিকল্পনা করে এবং এর নামকরণ করে ‘ইন্টারফেইথ ডায়ালগ’। তাদের এ পরিকল্পনায়- বাদশাহ আকবরের নতুন ধর্ম দ্বীন-ই-ইলাহীর ন্যায় সকল ধর্ম একত্রিত করে একটি ধর্ম বা মতবাদ প্রণয়ন করার কথা বলা হয় এবং এ লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার জিহাদ সম্পর্কিত ও কাফিরদের বিরুদ্ধে ৭০০ পবিত্র আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার প্রস্তাবনা করা হয়। (নাউযুবিল্লাহ) পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১২-১৩ নভেম্বর বিভিন্ন দেশের নেতারা এ বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একত্র হয় নিউইয়র্কে। সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ৫০০ ইসলামী ব্যক্তিত্বকে দাওয়াত দেয়া হয়, উদ্দেশ্য, ইন্টারফেইথ এর বিষয়টা ছড়িয়ে দেয়ার প্ল্যান বাস্তবায়ন জন্য। বিশেষ ঐ সম্মেলনে বাদশাহ আব্দুল্লাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলো: জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, পাকিস্তানের আসিফ আলী জারদারি, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া এরোয়ো, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ এবং জর্ডানের বাদশাদ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ।
জীবন থাকে ধর্মকে পৃথিকীকরণ কুফুরী চিন্তার নাম সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, রাষ্ট্র সবার’, ‘জীবনের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য জীবন নয়’ এই রকম স্লোগানগুলো সেক্যুলারিজম নামক চিন্তার সন্তান।
ইন্টারফেইথ মূলত সেক্যুলারিজম এর পরিমার্জিত রুপ। পার্থক্য শুধু এতোটুকু যে, সেকুলারিজম প্রচারে কাফেররা ব্যবহার করে প্যান্ট, কোট, টাই পরা সেকুলার বুদ্ধিজীবীদের যাদের শয়তানি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানরা মোটামুটি সচেতন থাকে। পক্ষান্তরে ইন্টারফেইথ প্রচারে কাফেররা ব্যবহার করে সাদা জুব্বা পড়া, দাড়ি ওয়ালা,পাগড়ী বাধা সহীহ আকিদার শায়েখ, মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস ও জনপ্রিয় স্কলারদের। ফলে সাধারণ মুসলমানরা সহজেই ধোকা খাই এবং নিজের অজান্তেই তারা ঈমান হারিয়ে বসে। এদিক থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার ফেতনার চেয়ে ইন্টারফেইথ এর ফেতনা অধিক মারাত্মক ও সূক্ষ্ম।
সম্প্রতি বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে ‘সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভা’ নামে ‘ইন্টারফেইথ ডায়লগ’-এর নীল নকশা বাস্তবায়নের তৎপরতা। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ এর সহযোগী অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ মনজুর এলাহীকে বুজে বা না বুজেই হোক না কেন ইন্টারফেইথ এর পক্ষে জনমত তৈরী করতে দেখা যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে খ্রিস্টান পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে এদেশের মিডিয়া ‘সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি’ নিয়ে জোরেশোরে ইন্টারনেটে প্রচার শুরু করে। এই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। এমনকি এই পথ ভ্রষ্ট লোকটি পোপের সাথে আন্ত: ধর্মের মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে। Dbc নিউজ টিভি চ্যানেল কর্তৃক আয়োজিত উগ্রবাদ: ধর্ম যখন হাতিয়ার শীর্ষক এক ইন্টারফেইথ টকশোতে অংশগ্রহণ করেন ডঃ মোহাম্মদ মনজুর এলাহী। যেখানে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজল দেবনাথ এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের চার্জ লিডার রেভারেন্ড মার্টিন। কাজল দেবনাথ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ নিয়ে অপব্যাখ্যা করলেও মনজুরে এলাহী তার প্রতিবাদ করেননি বরং কোরআনে আছে বলে সমর্থন করেছন। তিনি জুম্মাবারে মসজিদ থেকে, ওয়াজ মাহফিল সভা-সেমিনারে সব জায়গাতেই ‘ইন্টারফেইথ নিয়ে আলোচনা করা হোক তার সমর্থন করেন।
ইসলাম যেমন সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা সমর্থন করে না, তেমনি ইসলাম ইন্টারফেইথ বা সর্বধর্মীয় সম্প্রীতির নামে কোনো আলোচনা ও সমর্থন করে না।
কুরআন ও সুন্নাহের অকাট্য দলিল দ্বারা একথা সুস্পষ্ট যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো হক দ্বীন নেই। ইসলামই একমাত্র দ্বীন আর অন্য সকল ধর্ম বাতিল।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯]
“কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনও গ্রহণ করা হবে না এবং সে হবে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫]
“নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ। আমি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম করো”। [সূরা ত্ব-হা, আয়াত ১৪]
“আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার কোন ক্ষতিও করতে পারে না। অতএব তুমি যদি এরূপ করো তাহলে নিশ্চয়ই তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে”। [সূরা ইউনুস, আয়াত ১০৬]
"হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।" (সূরাহ আল-মায়িদাহ, আয়াত : ৫১)
খিলাফত অতীতে খারিজী, মুতাজিলা সহ বিভিন্ন প্রকারের ফিতনা থেকে অনেক মুসলিমদেরকে দূরে রাখতে পেরেছিল। একমাত্র খিলাফতই ইন্টারফেইথ, সেক্যুলারিজম, দাজ্জালসহ বর্তমান ও ভবিৎসতের সকল ফিতনা থেকে মুসলিমদেরকে দূরে রাখতে পারবে। বিভক্ত এই মুসলিম উম্মাহকে এক করতে, কাফেরদের এবং মুনাফিরদের সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে মুসলিমদেরকে রক্ষা করতে খিলাফত সকল প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
“ইমাম (খলিফা) হচ্ছেন সেই ঢাল যার পেছনে থেকে মুসলিমরা নিজেদেরকে রক্ষা করে।“ [সহীহ মুসলিম]
✦আরও পড়ুন
✦ প্রবন্ধ ✦শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
প্রবন্ধ
শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…
✦ প্রবন্ধ ✦ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
প্রবন্ধ
ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…
✦ প্রবন্ধ ✦মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
প্রবন্ধ
মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…