মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
প্রবন্ধ

শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ

৪ মিনিটে পড়ুন১৭ অক্টোবর ২০২৩
ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম কিবলা এবং এটি সেই বরকতময় ভূমি যেখানে নবী (সাঃ) আল ইসরা ওয়াল মিরাজে গিয়েছিলেন যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম হয়েছিল। এটাও বলা হয় যে আল কুদসের এক ইঞ্চিও এমন নেই যেখানে একজন নবী সালাত আদায় করেননি বা একজন ফেরেশতা দাঁড়িয়ে থাকেননি। এ ছাড়াও হযরত সুলাইমান দুআ করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি আল কুদস ভ্রমণ করবে, সে যেন গুনাহমুক্ত হয়ে ফিরে আসে। এসব কারণে এই অঞ্চল সমগ্র উম্মাহর নিকট ও প্রিয় ও পবিত্র বলে বিবেচিত।

দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর শাসনে মুসলিমরা জেরুজালেমকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছিল, ইসলামী রাষ্ট্র শত শত বছর ধরে ন্যায়বিচারের সাথে শাসন করেছে।

১৯৪৮ সালের পর জোরপূর্বক বিভিন্নভাবে ইহুদীরা ফিলিস্তিনের অধিকাংশ অংশ দখল করে নেয় এবং এখনো ফিলিস্তিনি মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে এবং আল-আকসা মসজিদকে অপবিত্র করছে।

কিন্তু শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ।

খিলাফত যে আবার আসবে এই ব্যাপারে মুসনাদে আহমদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি প্রসিদ্ধ হাদিস রয়েছে। সেইখানে বলা হয়েছে- ”তোমাদের মধ্যে নব্যুয়ত থাকবে যতক্ষন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইচ্ছা করেন; তারপর তিনি তার সমাপ্তি ঘটাবেন; তারপর প্রতিষ্ঠা হবে নব্যুয়তের আদলে খিলাফত। তা তোমাদের মধ্যে থাকবে যতক্ষন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইচ্ছা করেন; তারপর তিনি তার সমাপ্তি ঘটাবেন; তারপর প্রতিষ্ঠা হবে বংশীয় শাসন। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় এরও সমাপ্তি হবে। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে জুলুমের রাজত্ব এবং তা তোমাদের উপর থাকবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করেন। এরপর আবার আসবে নব্যুয়তের আদলে খিলাফত।” এই হাদিস অনুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল ভবিষ্যত বাণীই বাস্তবে সংঘঠিত হয়ে গেছে। যেমন এখন আমরা আছি জুলুমের রাজত্বে এবং আশা করছি এই জুলুমের রাজত্বের পর অতিশীঘ্র আমাদের মাঝে নব্যুয়তের আদলে খিলাফত ব্যবস্থা ফিরে আসবে।

ইবনে আসাকির-এর “দামেস্কের ইতিহাস” গ্রন্থে ইউনুস ইবনে মায়সারা ইবনে হালবাস হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেন, এই শাসন ব্যবস্থা (খিলাফত) আমার পর থাকবে মদীনায়, তারপর আল-শামে, তারপর আরব উপদ্বীপে, তারপর ইরাকে, তারপর (হীরাকলের) শহরে, তারপর বায়তুল মাকদিসে (আল-কুদ্স) এবং যখন আল-কুদ্সে প্রতিষ্ঠিত হবে তখন সেটাই হবে তার স্থান। এরপর লোকেরা (কেউ) তা কখনো বের (পরিবর্তন) করে দিতে পারবে না এবং তা চিরকালের জন্য তাদের কাছে ফিরে আসবে। পূর্ববর্তী খলীফাদের সময়ে এই উম্মাহ্ খিলাফতের রাজধানী দেখেছে মদীনায়, আল-শামে, ইরাকে এবং সর্বশেষে (হীরাকলের) শহরে অর্থাৎ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে(তুর্কী খিলফাত)।

ইবনে সাদ ও কানজুল উম্মাল ১৪/২৫২ এর গ্রন্থকার উভয়ে আবু উমায়রা আল মাযানী হতে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) বলেছেন, বায়তুল মাকদীসে একটি হেদায়েতপূর্ণ আনুগত্যের শপথ নেয়া হবে।

ইমাম মেহেদী সম্পর্কে আমাদের মাঝে একটি ভুল ধারনা আছে। আর তা হল আমরা অনেকেই ধারনা করি যে ইমাম মেহেদী আসার পর আবার খিলাফত শুরু হবে। আসলে এই ধারনা টা ভুল। ইমাম মেহেদী সম্পর্কে মেশকাত শরীফের কিয়ামতের নিদর্শন সমূহ এই অধায়্যের ৫২২২ নং যে হাদীস টি আছে আমরা যদি এখন ঐ হাদীসের প্রতি দৃষ্টিপাত করি তাইলে সেইখানে লেখা আছে যে – “উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক হতে বর্নিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , “শেষ যুগে খলিফার মৃত্যুর পর নেতৃস্থানীয় লোকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিবে পরবর্তী খলিফা কে হবে তা নিয়ে। তখন মদীনা থেকে একব্যাক্তি বের হয়ে মক্কার দিকে ছুটে পালাবে। এ সময় মক্কাবাসীগন তার নিকট এসে তাকে জোরপূর্বক বের করে আনবে। কিন্তু সে তা পছন্দ করবে না। প্রকৃতপক্ষে এই ব্যক্তিই ইমাম মেহেদী। অতঃপর হাযারে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে লোকেরা তার কাছে বায়াত গ্রহন করবে। এরপর সিরিয়া থেকে একটি সেনাবাহীনি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে তাদেরকে ভূগর্ভে পুঁতে ফেলা হবে। তারপর যখন চারদিকে এই খবর ছড়িয়ে পরবে এবং লোকেরা চাক্ষুষভাবে এই অবস্থা দেখবে তখন শামের (বর্তমান সিরিয়া)আবদাল গন এবং ইরাকের এক বিরাট দল তার কাছে আসবে ও তার কাছে বায়াত গ্রহন করবে। এরপর কোরাইশদের এক ব্যাক্তি যার মাতুল বংশ হবে বনু কালব , সেও ইমামের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠাবে। ইমামের সেনাবাহীনি তাদের উপর বিজয়ী হবে। এটাই কালবের উত্থান। ইমাম মানুষের মধ্যে নবীর আদর্শ মোতাবেক কাজ কর্ম পরিচালনা করবেন এবং তার শাসনামলে ইসলাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি সাত বছর অবস্থান করবেন। তারপর ইন্তেকাল করবেন এবং মুসলমানগন তার জানাযা পড়বে”। ( আবু দাঊদ)

আমাদের এখনকার মুসলমানদের ভবিষ্যত খিলাফত আসার ব্যাপারে ও সামনে আমাদের মুসলমানদের আবার ভাল সময় আসবে এই ব্যাপারে আশা রাখা উচিত। আমাদেরকে খিলাফত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করা উচিত যে খিলাফত ব্যবস্থা আমাদের মুসলিম সেনাবাহিনীকে একত্রিত করে ফিলিস্তিন কে ইহুদিদের থেকে পুনরুদ্ধার করবে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের অভিবাবক হিসেবে কাজ করবে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কখনই মুসলমানদের কে দীর্ঘ সময়ে কষ্টে রাখবেন না। আমরা মুসলমানরা আবার একসাথে কেন্দ্রীয় ভাবে একজন খলিফার অধীনে থাকবো, ইনশাআল্লাহ।

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
প্রবন্ধ

ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম

১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…

প্রবন্ধ

মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা

হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…

প্রবন্ধ

কি আজকে রকেট প্রযুক্তিতে দ্রুত, বিশ্ব-নেতৃস্থানীয় অগ্রগতি করতে ইসলামী উম্মাহকে বাধা দিচ্ছে?

বিভিন্ন খবরে দেখলাম, ২৩ আগস্ট ২০২৩, ভারত চাঁদে একটি রকেট সফলভাবে পাঠিয়েছে। কি আজকে রকেট প্রযুক্তিতে দ্রুত, বিশ্ব-নেতৃস্থানীয় অগ্রগতি করতে ইসলামী…