মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

আমরা সেই সে জাতি (১ম খন্ড) - আবুল আসাদ · অধ্যায় ১৫/৬৮

(১৫) খন্দকের এক শহীদ

খন্দকের এক শহীদ

খন্দক যুদ্ধ তখন শুরু হয়ে গেছে। মদীনার আউস গোত্রাধিপতি সা’দ ইবন মুয়াজ যুদ্ধ সাজে সজ্জিত হয়ে রণাঙ্গনে যাচ্ছেন। বনু হারেসার দুর্গের পাশ দিয়ে যাবার সময় দুর্গের উপরে উপবিষ্ট সা’দের মা বললেন, “বাছা, তুমি তো পিছনে পড়ে গেছ, যাও তাড়াতাড়ি।”

যুদ্ধকালে মারাত্নকভাবে তীরবিদ্ধ হলেন মুয়াজ। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হলোনা। মহানবী (সাঃ) তাঁকে তাড়াতাড়ি মসজিদের সন্নিকটবর্তী এক তাঁবুতে নিয়ে এলেন। মুয়াজ আর যুদ্ধে যেতে পারলেন না। তাঁর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে লাগলো। কিন্তু নিজের দিকে তাঁর কোন খেয়াল নেই, তাঁর বড় চিন্তা, ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করতে পারছেন না। আর একটি চিন্তা তার মনকে আকুল করে তুলছিল, তিনি যদি এ আঘাতে মারাই যান, তাহলে ইসলাম বৈরী কুরাইশদের চরম শিক্ষা দেয়ার ঘোরতর যুদ্ধগুলোতে তিনি আর শরীক থাকতে পারবেন না। মুয়াজ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন, “হে আল্লাহ, কুরাইশদের সাথে যদি যুদ্ধ অবশিষ্ট থাকে তাহলে আমাকে জীবিত রাখুন। তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমার খুব সাধ জাগে, কারণ তারা আপনার রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে, তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে এবং মক্কা থেকে বহিষ্কার করে দিয়েছে। আর যদি কোন যুদ্ধ না থাকে, তবে এ আঘাতেই যেন আমার শাহাদাত লাভ হয়।” খন্দক যুদ্ধের পর কুরাইশদের সাথে প্রকৃত অর্থে আর কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। মক্কা বিজয়ের সময় ছোট খাট সংঘর্ষ ছাড়া বড় রকমের কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি।

খন্দক যুদ্ধ শেষ হলো, হযরত মুয়াজ আর সেরে উঠলেন না। শাহাদাতের দিকে তিনি এগিয়ে চললেন। মসজিদে নববীর তাঁবুতেই তখনও তিনি থাকেন। শাহাদাতের পরম মুহূর্ত একদিন ঘনিয়ে এল তাঁর। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হযরত মুয়াজ। সংবাদ পেয়ে মহানবী (সাঃ) ছুটে এসে মুয়াজের মাথা কোলে তুলে নিলেন। সৌম্য শান্ত, পরম ধৈর্যের প্রতীক আবু বকর (রাঃ) তাঁর মৃতদেহের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, “আমার কোমর ভেংগে গেছে।” মহানবী (সাঃ) আবু বকরকে (রাঃ) সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “এরূপ কথা বলা চলে না, আবু বকর।” সিংহ হৃদয় হযরত উমার (রাঃ) মুয়াজের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন। সংবাদ শুনে মুয়াজের মা ছুটে এলেন। তাঁর চোখে অশ্রু, কিন্তু মুখে তিনি বললেন, “বীরত্ব, ধৈর্য ও দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে সা’দ সৌভাগ্যশালী হয়েছে।”