মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
নির্বাচিত খবর

বেকারত্বই যখন রাষ্ট্রের আয়ের অন্যতম উৎস! নিয়োগ পরীক্ষায় গলাকাটা ফি বেকারদের উপর জুলুম করার আরেকটি পদ্ধতি

২ মিনিটে পড়ুন২৩ আগস্ট ২০২০
বেকারত্বই যখন রাষ্ট্রের আয়ের অন্যতম উৎস! নিয়োগ পরীক্ষায় গলাকাটা ফি বেকারদের উপর জুলুম করার আরেকটি পদ্ধতি
খাদ্য অধিদপ্তরের ১ হাজার ১০০ জন নিয়োগের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে প্রায় ১৫ লাখ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চার ক্যাটাগরির ৬৪টি শূন্যপদে আবেদনকারীর সংখ্যা এক লাখ এক হাজার ৯১টি। অর্থাৎ প্রতি আসনে গড়ে প্রায় ১৫৮০ (১৫৭৯.৫৪) জন চাকরির জন্য আবেদন করেছেন।

পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা মাত্র ৩০ বছর। শিক্ষিত তরুণ-তরুণী যারা উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ। এই শিক্ষিত বেকারদের চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত আবেদন করতে হচ্ছে আর এজন্য তাদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত পরীক্ষা বাবদ ফি।

সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে হলে বাংলাদেশে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আবেদন ফি জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে সুবিধা বঞ্চিত ব্যতীত সকল প্রার্থীর জন্য অফেরতযোগ্য ৭০০ এবং ১০০ টাকা নেওয়া হয়ে থাকে। প্রায় সব প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির আবেদন ‘ফি’ অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। আবার কোনো কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ফি’ নিয়ে থাকে। এই মোটা অঙ্কের ‘ফি’ লাখ লাখ বেকার চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে নেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন করেছিল ২৪ লাখ এক হাজার ৫৯৭ জন প্রার্থী। এ নিয়োগ পরীক্ষা বাবদ ১৬৮ টাকা ফি আদায় করা হয়। আবেদনে ৪০ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৬ টাকা জমা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে। গতবছরের মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষকের এক হাজার ৩৭৮ পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩২২ জন প্রার্থী। প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে ফি বাবদ নেয়া হয়েছে ৫০০ টাকা। এতে সরকারের আয় হয়েছে ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা।

গত ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য দুই হাজার ২৪ শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছিল তিন লাখ ৮৯ হাজার জন। যার ফি ছিল ৭০০ টাকা। এর মাধ্যমে ২৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বেকারদের পকেট থেকে। সর্বশেষ ৪০ তম বিসিএসে আবেদন করেছেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। গড়ে ৭০০ টাকা আবেদন ফি ধরলে পিএসসি বেকার তরুণদের কাছ থেকে আয় করেছে ২৮ কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৪০০ টাকা।

গত বছরের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৯ হাজার ৫৩৫ টি শূন্য পদে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এতে উপরিউক্ত শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় ৩১ লাখ আবেদন জমা পড়ে। ১৮০ টাকা আবেদন ফিতে এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের এ আবেদন ফি থেকে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আয় করে।

***ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় ১১৪টি ঝাড়ুদার পদের বিপরীতে এবার চাকরির আবেদন করেছেন ১৯ হাজার এমবিএ, বি টেক ছাত্র-ছাত্রীরা।