মূল লেখায় যানSkip to content
হিকমাহHikmah
বিশ্লেষণAnalysis

ইসলামে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই!

২2 মিনিটে পড়ুনmin read ২2 বার দেখা হয়েছেviews১৩ জুন ২০২০13 June 2020
কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি গাত্রবর্ণের কারণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণের নীতিকেই বর্ণবাদ বলে। বর্ণবাদ সমাজ শোষণের এক অন্যতম হাতিয়ার।

২০২০ সাল। আধুনিক এই সময়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বর্ণবাদী হত্যা’ হয়তো কেউ কল্পনা করেনি। আধুনিক, পরাক্রমশালী ও গণতন্ত্রের ধারক–বাহক হিসেবে পরিচয় দেওয়া দেশটিতে এখনো এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এই বিষয়ে চোখ বন্ধ করে থাকার উপায়ও নেই।

বর্ণবাদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ পেতে ঘাড়ে হাঁটু বাধিয়ে মাটিতে ঠেসে ধরে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির হত্যার ভিডিও দেখতে হবে না আপনাকে, পুলিশের হাতে মৃত্যুর সংখ্যার দিকে তাকালেই হবে। যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গের চেয়ে তিন গুণ বেশি কৃষ্ণাঙ্গ মারা যায় পুলিশের হেফাজতে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিকে তাকালেও শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গের বৈষম্য স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। করোনায় সাদা চামড়ার মানুষের চেয়ে কালোরা অনেক বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এই তথ্য শুধু করোনো মহামারিকালেই নয়, অন্য সময়েও খাটে। দেশটিতে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের গড় আয়ু তিন বছর কম। ঘনবসতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং অপরাধপ্রবণ নগরে বসবাস করে অনেক কৃষ্ণাঙ্গ। আর্থিক অনটন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ফলে সন্তানদের সাধারণ স্কুলে পড়াতে বাধ্য হয় এসব মানুষ।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড খুন, জর্জিয়ায় প্রতিবেশী এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির গুলিতে ২৫ বছর বয়সী নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ যুবক আহমুদ আরবেরির মৃত্যু—এই রকম কোনো ঘটনাকেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

ইউনিভার্সিটির অব ম্যারিল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক রায়শান রায় বলেন, পুলিশের অতিরিক্ত তৎপরতার বেশির ভাগ শিকার কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিরা। নিউইয়র্কে সামাজিক দূরত্ব নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের ৮০–৯০ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ বা লাতিনো।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও সাদা–কালোর বৈষম্য রয়েছে। ২০১০ সালে করা সমাজবিজ্ঞানী ইভলিন জে প্যাটারসনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গরা কারাগারে কম সময় বাঁচে। আর কারাগারের বাইরে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের চেয়ে কারাগারে থাকা কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুহার কম। এর অর্থ হলো, বাইরের চেয়ে কারাগারে ভালো চিকিৎসাসেবা পায় কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিরা।

ইসলামে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই। ইসলাম বর্ণবাদকে নির্মূল করে আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করে এর উদাহরণ বিশ্ববাসীর সামনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই তো আমরা দেখতে পাই হাবশার হজরত বিলালকে [রা.] ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিনরূপে।

একবার বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু যর গিফারী (রা.) তর্কের সময় বিলাল (রা.) কে ‘কালো মায়ের সন্তান’ বলে গালমন্দ করলে রাসূল (সা.) এতে বিরক্ত হন। তিনি তখন আবু যর (রা.) কে বলেন, ‘তুমি এমন ব্যক্তি, যার মধ্যে এখনো জাহেলিয়াতের চিহ্ন রয়েছে”। রাসূল (সা.) এখানে হযরত আবু যর গিফারী (রা.) এর বক্তব্যকে ‘জাহিলিয়াতে’র সাথে তুলনা করেছেন।

৬৩২ ঈসায়ীতে বিদায় হজ্জ্বের সময় মুহাম্মদ (সা.) এর শেষ ভাষনেও তিনি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে গিয়েছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন,

“কোন অনারবের উপর কোন আরবের, কোন আরবের উপর কোন অনারবের উচ্চ মর্যাদা নেই…….একজন শেতাঙ্গ একজন কৃষ্ণাঙ্গের তুলনায় এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ একজন শেতাঙ্গের তুলনায় উচ্চতর নয়। পার্থক্য শুধু মানুষের চরিত্র ও কর্মের মাধ্যমে।”