মূল লেখায় যানSkip to content
হিকমাহHikmah
বিশ্লেষণAnalysis

পরিবহন খাতে চলছে চাঁদাবাজী

৩3 মিনিটে পড়ুনmin read ১1 বার দেখা হয়েছেviews২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০29 September 2020
সরকার সীমিত আকারে গণপরিবহন চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর বাস-মিনিবাসে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ পরিস্থিতিতে পরিবহনমালিকেরা লোকসান এড়াতে ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ কার্যালয়ে সংস্থাটির স্থায়ী ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির ঘণ্টাখানেকের বৈঠকে রাজধানী ঢাকাসহ দূরপাল্লার পথের বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। ১ জুন, ২০২০ থেকে তা কার্যকর হবে।

বর্তমানে ঢাকায় কিলোমিটারপ্রতি মিনিবাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা এবং বড় বাসে ১ টাকা ৭০ পয়সা ভাড়া নির্ধারিত আছে। দূরপাল্লার পথে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১ টাকা ৪২ পয়সা। ঢাকায় সর্বনিম্ন ভাড়া আছে মিনিবাসে ৫ এবং বড় বাসে ৭ টাকা। আর দূরপাল্লার পথে ফেরি বা সেতুর টোল যুক্ত হয়। যে হিসাব করে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, তাতে বিদ্যমান বাস-মিনিবাসের ৫০ শতাংশ ফাঁকা রাখলেও লোকসান হয় না।

এ ছাড়া ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পরিবহনমালিকেরা ‘সিটিং সার্ভিস’সহ নানা নামে আগে থেকেই শতভাগ বা এরও বেশি ভাড়া আদায় করে আসছেন। নতুন করে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া সেই আগের বাড়তি ভাড়ার সঙ্গেই যুক্ত করে আদায় করবেন পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা।

দূরপাল্লার বাসের মধ্যে বিলাসবহুল ও এসি বাসের ভাড়া মালিকেরা নিজেরাই ঠিক করে থাকেন। সব বাসের ভাড়া আগে থেকেই এত বেশি যে কখনো কখনো ২০-৩০ শতাংশ আসন ফাঁকা থাকলেও তাঁদের লোকসান গুনতে হয় না।ফলে এখন ৬০ শতাংশ বাড়তি মানে হচ্ছে আগের বাড়তি ভাড়ার ওপর আরও ভাড়া বাড়ানো।

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে ছয় হাজারের মতো বাস-মিনিবাস এর মালিক প্রায় দুই হাজার যারা প্রায় পৌনে দুই শ কোম্পানির অধীনে চলাচল করতে বাধ্য। এই কোম্পানিগুলোর এমডি বা চেয়ারম্যানের বেশির ভাগই সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা। তাঁরা একটি বা খুব কমসংখ্যক বাস নামিয়ে কোম্পানির সর্বেসর্বা হয়ে যান। এরপর সাধারণ মালিকেরা তাঁদের অধীনে বাস চালাতে দেন। বিনিময়ে কোম্পানিকে দৈনিক ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। এটাকে জিপি বা গেট পাস বলা হয়।

এই চাঁদার কিছু অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে, স্থানে স্থানে কোম্পানির টিকিট পরীক্ষা করার যে লোক থাকেন, তাঁদের পেছনে, কিছুটা অফিস খরচে ব্যয় হয়। সিংহভাগই কোম্পানির প্রভাবশালী উদ্যোক্তাদের পকেটে চলে যায়।

ঢাকায় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের পরিবারের সার্বিক পরিবহনের বাস চলে কয়েকটি পথে। তাঁর ভাই আজিজুর রহমান খান কোম্পানির প্রধান। নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের আছে জেড এন করপোরেশন। সাংসদ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ বিহঙ্গ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের নামে আছে চলন পরিবহন। এর বাইরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন নেতা ও কাউন্সিলরদের অন্তত ৩০ জনের পরিবহন কোম্পানি আছে।

এ ছাড়া রাজধানী ও দূরপাল্লার প্রতিটি পরিবহন থেকে দৈনিক ৭০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। ৪০ টাকা যায় মালিক সমিতির কাছে। ৩০ টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের। সারা দেশে শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান। আর মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান আর মহাসচিব আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ।
প্রতিটি জেলা পর্যায়েও পরিবহনমালিক-শ্রমিকদের সংগঠন আছে। এসব সংগঠনের শীর্ষ পদ এখন আওয়ামী লীগের নেতা বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দখলে। কোনো জেলা কমিটির সদস্য হয়ে বাস নামাতে হলে ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়।

জিপির নামে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে। সরকার সুকৌশলে চাঁদাবাজি করছে। পরিবহন খাতে পদে পদে চাঁদাবাজি না আটকিয়ে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে. ফলে চাঁদাবাজদের পকেট আর ও ভারী হবে।

চাঁদাবাজিসহ যে কোন যুলম ইসলামে নিষেধ। ইসলামে শিরকের পর সবচেয়ে কঠিন গুনাহর কাজ হচ্ছে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেন- ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থসম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে তাদের কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন, ‘অবৈধ চাঁদা আদায়কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (আবু দাউদ)

এই পঁচা পুজিবাদি ব্যবস্থা চাদাবাজ তৈরী করে, চাঁদাবাজদের আশ্রয় দেয় এবং চাঁদাবাজদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ করে দেয়। খিলাফত রাষ্ট্রে পরিবহন খাত থেকে চাঁদাবাজি দূর করবে এবং সকল প্রকার চাঁদাবাজদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে ।